ব্রতচারী বিজ্ঞান : জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য ও আনন্দ।

উপরে যে সাঙ্কেতিক পরিরচনাটি ছাপানো হয়েছে, এটা বাংলার ব্রতচারীর ব্যক্তিগত ও সংঘগত বিচিহ্ন। এতে ব্রতচারীর পাঁচটি ব্রতের সাঙ্কেতিক চিহ্ন সন্নিবেশিত আছে। মাঝখানে জ্ঞানের প্রদীপ; দুই পার্শ্বে শ্রমের প্রতীক কোদাল ও কুঠার; মধ্যভাগে সত্যের সরল পথসূচক রেখা ও ঐক্যের গ্রন্থি এবং এগুলিকে ধারণ করে রয়েছে আনন্দের লহরী। আবার কোদাল ও কুঠারে দুইটি ‘ব’ আঁকা আছে, এই ‘ব-ৰ’ সূচনা করেছে ‘বাংলার ব্রতচারী’। বিচিহ্নের নীচে আছে ‘জ-সো-বা’; উহার অর্থ – জয় সোনার বাংলার।

কোন অভিষ্ট সিদ্ধির জন্য মনে দৃঢ় পৰিত্ৰ সংকল্প গ্রহণ করে একাগ্রচিত্তে সেই সংকল্পকে কার্যে পরিণত করে তুলবার কায়মনোবাক্যে চেষ্টার নামই ব্রত। যে পুরুষ, নারী, বালক বা বালিকা এরকম কোন সংকল্প মনে গ্রহণ করে তাকে একাগ্রচিত্তে পালন করাই নিজের কর্তব্য মনে করেন এবং সেই ভাবে আচরণ করেন, তাঁকে আমরা ব্রতচারী বলি। এই হ’ল ব্রতচারীর সাধারণ অর্থ। কিন্তু আমরা ব্রতচারী কথাটাকে একটা বিশেষ অর্থে ব্যবহার করেছি। এখানে যে ব্রতের কথা আমরা বুঝি, তা জীবনের যে-কোন একটা বিশেষ অভিষ্ট-সিদ্ধির ব্রত নয়। মানুষের জীবনকে সব দিক থেকে সকল প্রকারে সফল, সার্থক ও পূর্ণতাময় ক’রে তোলবার অভীষ্ট নিয়ে যাঁরা এত ধারণ করেন, ব্রতচারী বলতে আমরা এখানে তাঁদের কথাই বুঝব। এর চেয়ে বড় বা ব্যাপক অভীষ্ট সংসারে মানুষের হ’তে পারে না।

মানুষের জীবনকে সম্পূর্ণ সার্থক, সফল ও পূর্ণতাময় করে তোলবার, অভীষ্ট সিদ্ধি করবার জন্য যে পূর্ণব্রত গ্রহণ করা হবে, সেই পূর্ণ প্রতটিকে আমরা পাঁচ ভাগে অথবা পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন ব্রতে বিভক্ত করেছি। এগুলি এই : জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য ও আনন্দ। সংক্ষেপে জ্ঞজ্ঞ শ্র-স-ঐ- আ। ব্রতচারীর এই পাঁচটি ব্রত অথবা পঞ্চব্রত। এই পাঁচটি ব্রতের সমষ্টিকেই আমরা মানুষের পূর্ণাদর্শের জীবন-ব্রত বলে ধরে নিতে পারি। যিনি এই পাঁচটির প্রত্যেকটি একসঙ্গে পালন করতে দৃঢ় সংকল্প করেছেন এবং জীবনে কায়মনোবাক্যে এই পঞ্চব্রত পালন করবার জন্য সরলভাবে চেষ্টা ক’রে থাকেন, সেই পুরুষ, নারী, বালক বা বালিকাকেই আমরা বলি ব্রতচারী।

Leave a Comment